ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো ঢালারচর এক্সপ্রেস। পাবনা জেলার ঢালারচর থেকে রাজশাহী বিভাগীয় শহর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে চলাচলকারী এই ট্রেনটি সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আপনি যদি বর্তমান সময়ে পাবনা থেকে রাজশাহীতে নিরাপদ এবং আরামদায়ক যাত্রা করতে চান তবে আপনার জন্য ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও এর আনুষঙ্গিক তথ্যগুলো জানা অপরিহার্য।

অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের সেবার মান উন্নত করতে নিয়মিত বিরতিতে সময়সূচী সংস্কার করে থাকে। ঢালারচর এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর ট্রেন যা দীর্ঘ পথে প্রায় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সঠিক সময়সূচী না জানার কারণে অনেক যাত্রী সময়মতো স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন না বা টিকিটের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়েন। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা ২০২৬ সালের নতুন সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা এবং ট্রেনের রিয়েল-টাইম লোকেশন ট্র্যাকিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পাবনা থেকে রাজশাহীর এই যাত্রাপথ কেবল ভ্রমণের জন্য নয়, বরং এটি শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য এক আস্থার প্রতীক। সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে এমন তথ্যগুলো আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এখানে তুলে ধরেছি, যাতে আপনার ভ্রমণ হয় নির্বিঘ্ন ও আনন্দদায়ক।

ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচিতি

ঢালারচর এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন। এটি মূলত পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ঢালারচর স্টেশন থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করে। এই রুটটি চালুর ফলে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে এবং রাজশাহীর সাথে একটি সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, এই ট্রেনটি ব্রডগেজ লাইনে চলাচল করে এবং এর কোচগুলো বেশ আরামদায়ক।

ঢালারচর টু রাজশাহী ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী (৭৭৯)

পাবনার ঢালারচর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের নম্বর হলো ৭৭৯। প্রতিদিন ভোরবেলা এই ট্রেনটি তার যাত্রা শুরু করে। নিচে ঢালারচর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত প্রতিটি স্টেশনের পৌঁছানোর সময় ও বিরতির তালিকা দেওয়া হলো:

স্টেশনের নামপৌঁছানোর সময়
ঢালারচর (প্রারম্ভিক)সকাল ০৬:৩০ মিনিট
বাদেরহাটসকাল ০৬:৪১ মিনিট
কাশিনাথপুরসকাল ০৬:৫৮ মিনিট
সাথিয়া রাজাপুরসকাল ০৭:১৩ মিনিট
তাতিবান্ধাসকাল ০৭:২৬ মিনিট
ডুবলিয়াসকাল ০৭:৩৬ মিনিট
রাঘবপুরসকাল ০৭:৪৮ মিনিট
পাবনা জংশনসকাল ০৮:০১ মিনিট
তেবুনিয়াসকাল ০৮:১৮ মিনিট
দাশুড়িয়াসকাল ০৮:৩০ মিনিট
মাঝগ্রামসকাল ০৮:৪৩ মিনিট
ঈশ্বরদী বাইপাসসকাল ০৯:০০ মিনিট
আজিম নগরসকাল ০৯:১৫ মিনিট
আব্দুলপুর জংশনসকাল ০৯:২৫ মিনিট
আড়ানিসকাল ০৯:৩৮ মিনিট
সারদাহ রোডসকাল ০৯:৫৬ মিনিট
রাজশাহী স্টেশন (গন্তব্য)সকাল ১০:২৫ মিনিট

বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক জ্যাম বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫-১০ মিনিট সময় এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে ঢালারচর এক্সপ্রেস তার পাংচুয়ালিটির জন্য পরিচিত। তাই নির্ধারিত সময়ের অন্তত ২০ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাজশাহী টু ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী (৭৮০)

রাজশাহী থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে ফিরে আসা ট্রেনের নম্বর হলো ৭৮০। এটি বিকেলে রাজশাহী থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রাতে ঢালারচর পৌঁছায়। ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ফিরতি পথের বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

স্টেশনের নামপৌঁছানোর সময়
রাজশাহী স্টেশন (প্রারম্ভিক)বিকাল ০৫:২০ মিনিট
সারদাহ রোডবিকাল ০৫:৩৭ মিনিট
আড়ানিবিকাল ০৫:৫৫ মিনিট
আব্দুলপুরবিকাল ০৬:১০ মিনিট
আজিম নগরবিকাল ০৬:২০ মিনিট
ঈশ্বরদী বাইপাসবিকাল ০৬:৩০ মিনিট
মাঝগ্রামসন্ধ্যা ০৬:৪০ মিনিট
দাশুড়িয়াসন্ধ্যা ০৬:৫২ মিনিট
তেবুনিয়াসন্ধ্যা ০৭:১০ মিনিট
পাবনা স্টেশনসন্ধ্যা ০৭:২৫ মিনিট
রাঘবপুরসন্ধ্যা ০৭:৩৫ মিনিট
ডুবলিয়া (দেবুলিয়া)সন্ধ্যা ০৭:৫০ মিনিট
তাঁতিবন্ধরাত ০৮:০০ মিনিট
সাথিয়া রাজাপুররাত ০৮:১২ মিনিট
কাশিনাথপুররাত ০৮:৩০ মিনিট
বাদেরহাটরাত ০৮:৪৮ মিনিট
ঢালারচর (গন্তব্য)রাত ০৯:১৫ মিনিট

ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬

ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার হার বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত। দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে এবং আসনের ধরণ অনুযায়ী ভাড়া কম-বেশি হতে পারে। সাধারণত এই ট্রেনে দুই ধরণের আসনের ব্যবস্থা থাকে:

  • শোভন (Shovon): ১৩৫ টাকা (গড় ভাড়া)
  • শোভন চেয়ার (Shovon Chair): ১৬৫ টাকা (গড় ভাড়া)

অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই ভাড়া তালিকা যেকোনো সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হতে পারে। টিকিট কাটার সময় কাউন্টার বা অনলাইন পোর্টাল থেকে সঠিক ভাড়া যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সাধারণত ভাড়ার প্রয়োজন হয় না, তবে তাদের জন্য আলাদা আসন বরাদ্দ থাকবে না।

ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন (Off-Day)

যেকোনো ট্রেন ভ্রমণের আগে তার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ঢালারচর এক্সপ্রেস সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চলাচল বন্ধ রাখে।

  • ৭৭৯ (ঢালারচর থেকে রাজশাহী): সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বৃহস্পতিবার।
  • ৭৮০ (রাজশাহী থেকে ঢালারচর): সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বুধবার।

সাধারণত দেখা যায়, উৎসব বা ঈদের বিশেষ সময়ে এই অফ-ডে বাতিল করে ট্রেনটি স্পেশাল সার্ভিস হিসেবে চালু রাখা হয়। তবে নিয়মিত যাত্রার ক্ষেত্রে এই দিনগুলো খেয়াল রাখা জরুরি।

ট্রেন এখন কোথায়? ঢালারচর এক্সপ্রেস লোকেশন ট্র্যাকিং

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এখন আর স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। আপনি আপনার মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই ঢালারচর এক্সপ্রেস এখন কোথায় আছে তা জানতে পারবেন। এটি “ট্রেন ট্র্যাকিং সিস্টেম” (TTS) হিসেবে পরিচিত।

SMS এর মাধ্যমে ট্র্যাকিং পদ্ধতি:

  1. আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে যান।
  2. টাইপ করুন: TR [Space] 779 (পাবনা থেকে রাজশাহী যাত্রার জন্য) অথবা TR [Space] 780 (রাজশাহী থেকে পাবনা ফিরতি পথের জন্য)।
  3. মেসেজটি পাঠিয়ে দিন 16318 নাম্বারে।
  4. কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএস-এর মাধ্যমে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানতে পারবেন।

পাবনা থেকে রাজশাহীর দূরত্ব ও ভ্রমণ সময়

ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও নিখুঁত করতে দূরত্বের ধারণা থাকা প্রয়োজন। পাবনা থেকে রাজশাহী অথবা রাজশাহী থেকে পাবনার রেল দূরত্ব প্রায় ৯৬.৪ কিলোমিটার। ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা। এটি বাসের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং ঝামেলারহীন একটি মাধ্যম।

অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম

এখন ঘরে বসেই ‘রেল সেবা’ অ্যাপ বা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) থেকে টিকিট কাটা যায়।

  • প্রথমে এনআইডি (NID) কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
  • আপনার যাত্রা শুরুর স্টেশন ও গন্তব্য স্টেশন নির্বাচন করুন।
  • তারিখ অনুযায়ী আসন খালি আছে কি না তা যাচাই করুন।
  • বিকাশ, রকেট বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে ই-টিকিট ডাউনলোড করে নিন।

কেন ঢালারচর এক্সপ্রেস আপনার ভ্রমণের জন্য সেরা?

পাবনা এবং রাজশাহীর মধ্যে যাতায়াতের জন্য ঢালারচর এক্সপ্রেস বেশ কিছু কারণে অনন্য:

  • নিরাপদ যাত্রা: সড়কের যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে মুক্তি দেয়।
  • সাশ্রয়ী ভাড়া: মাত্র ১৩৫-১৬৫ টাকায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যায়।
  • প্রাকৃতিক দৃশ্য: চলনবিলের পাশের এই রেলপথে যাত্রার সময় চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
  • সময় সাশ্রয়: ঈশ্বরদী বাইপাস হয়ে সরাসরি রাজশাহীতে প্রবেশ করায় সময় অনেক কম লাগে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ঢালারচর এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?

না, এটি সপ্তাহে ৬ দিন চলে। ঢালারচর থেকে রাজশাহী রুট বৃহস্পতিবারে এবং রাজশাহী থেকে ঢালারচর রুট বুধবারে বন্ধ থাকে।

২. স্টেশনে টিকিট কি আগেভাগেই কাটতে হয়?

আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় সাধারণত ৩-৫ দিন আগে টিকিট কাটা নিরাপদ। তবে সিট খালি থাকলে যাত্রার দিনেও টিকিট পাওয়া যেতে পারে।

৩. এই ট্রেনে কি এসি (AC) আসন আছে?

বর্তমানে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে মূলত শোভন ও শোভন চেয়ার কোচের ব্যবস্থা রয়েছে। এসি কোচের সুবিধা এখনো এই রুটে যুক্ত হয়নি।

৪. ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে কি ট্রেন থামে?

হ্যাঁ, ঢালারচর এক্সপ্রেস ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে বিরতি দেয়। এটি যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন পয়েন্ট।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও সঠিক তথ্য আপনার ভ্রমণকে আরও বেশি সুশৃঙ্খল করে তুলবে। পাবনা থেকে রাজশাহীর এই যাত্রাপথ কেবল ভৌগোলিক দূরত্ব কমায়নি, বরং এটি দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। আপনি যদি এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী হন, তবে আমাদের এই গাইডটি আপনার ফোনের বুকমার্কে সেভ করে রাখতে পারেন।

ভ্রমণের সময় অবশ্যই ট্রেন পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করবেন এবং রেলওয়ের আইন মেনে চলবেন। আপনার সুন্দর ও নিরাপদ ভ্রমণ কামনা করছি। আমাদের এই পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং ট্রেন সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের জন্য নিচে কমেন্ট করুন।

Nustrat Jahan
আমি রেলওয়ে সেবা ওয়েব সাইটে পরিচালনা করে থাকি। আমার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য প্রদান করা রেলে সম্পর্কে।
Sharing Is Caring:

Leave a Comment