Express Train

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তঃনগর ট্রেন হলো বিজয় এক্সপ্রেস। এটি মূলত ময়মনসিংহ ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে থাকে। যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় এই ট্রেনটি আরামদায়ক যাত্রার জন্য পরিচিত। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, টিকেট বুকিং পদ্ধতি এবং যাত্রাপথের স্টেশন সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। নিচে বিস্তারিতভাবে সবকিছু তুলে ধরা হলো যা আপনার যাত্রা পরিকল্পনাকে আরও সহজ করবে।

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি ও ইতিহাস

বিজয় এক্সপ্রেস একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ট্রেন। প্রতিদিন এটি ময়মনসিংহ টু চট্টগ্রাম রুটে যাত্রা করে। যাত্রাপথে এই ট্রেনটি মোট ৩৪৯ কিলোমিটার (২১৭ মাইল) রেলপথ অতিক্রম করে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বিজয় এক্সপ্রেসের সময় লাগে প্রায় ৯ ঘন্টা। ট্রেনটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৪ সালের ১৯শে ডিসেম্বর। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী এই ট্রেনটি বর্তমানে যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে ট্রেনটি সাদা চাইনিজ কোচে চলাচল করে, যা যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক। ট্রেনটিতে সর্বমোট ১৪টি কামরা বা কোচ রয়েছে। এই কোচগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫টি শোভন চেয়ার, ৫টি এসি চেয়ার, ১টি এসি কেবিন, ১টি এসি খাবার গাড়ি, ১টি ননএসি খাবার গাড়ি ও ১টি পাওয়ার কার। মোট ট্রেন লোড ১৪/২৮ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ টু চট্টগ্রাম রুটে এই ট্রেনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস নামে আরো একটি ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে বিজয় এক্সপ্রেস জামালপুর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

যাত্রার সুবিধার জন্য ট্রেনের সঠিক সময় জানা অত্যন্ত জরুরি। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী দুইটি রুটের জন্য আলাদা। সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি উভয় রুটের জন্যই মঙ্গলবার। নিচে ছক আকারে সময়সূচী দেওয়া হলো:

ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রাম রুট (ট্রেন নম্বর ৭৮৫)

গন্তব্যছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক বন্ধ
ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামরাত ৯:৪০ মিনিটভোর ৫:০০ মিনিটমঙ্গলবার

চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ রুট (ট্রেন নম্বর ৭৮৬)

গন্তব্যছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক বন্ধ
চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহসকাল ৯:১৫ মিনিটবিকাল ৪:২৫ মিনিটমঙ্গলবার

এই সময়সূচী অনুযায়ী, Bijoy Express Train Schedule ময়মনসিংহবাসীদের জন্য রাতের ট্রেনটি খুবই সুবিধাজনক, কারণ সকালে পৌঁছে তারা পুরো দিন কাজ সেরে ফেলতে পারেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে সকালের ট্রেনটি বিকালের মধ্যে ময়মনসিংহ পৌঁছে যায়।

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া আসনের শ্রেণিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। যাত্রীরা তাদের বাজেট এবং আরামের মান অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারেন। টিকেট কাউন্টারে গিয়ে অথবা অনলাইনের মাধ্যমেও টিকেট সংগ্রহ করা যায়। নিচে বিভিন্ন স্টেশনের জন্য ভাড়ার তালিকা উল্লেখ করা হলো:

স্টেশনের নামএসি বি (AC_B)স্নিগ্ধা (Snikdha)এসি এস (AC_S)শোভন চেয়ার (Chair)
জামালপুর৬৫ টাকা
পিয়ারপুর৫০ টাকা
ময়মনসিংহ২১৯ টাকা১২৭ টাকা
আঠারবাড়ি১১৫ টাকা
গৌরীপুর২০২ টাকা১০৫ টাকা
কিশোরগঞ্জ৫২৯ টাকা২৯৪ টাকা১৫৫ টাকা
সরারচর১৮০ টাকা
ভৈরব২০০ টাকা
আখাউড়া২৫৫ টাকা
কুমিল্লা২৯৫ টাকা
লাকসাম৩২০ টাকা
ফেনী৩৫৫ টাকা
ভাটিয়ারী৪৩০ টাকা
চট্টগ্রাম১৪৭৮ টাকা৮২৩ টাকা৯৮৯ টাকা৪৩০ টাকা

অনলাইন টিকেট বুকিং পদ্ধতি ২০২৬

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইনে টিকেট বুকিং করা খুবই সহজ। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট পেতে হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://eticket.railway.gov.bd/-এ ভিজিট করতে হবে। এটি টিকেট কেনার জন্য একমাত্র অনুমোদিত ওয়েবসাইট।

টিকেট বুকিংয়ের কিছু নিয়ম রয়েছে:

  • ট্রেন ছাড়ার ৫ দিন আগে সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত টিকেট বুকিং করা যায়।
  • প্রতিটি টিকেট বুকিংয়ের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।
  • স্নিগ্ধা, এসি এস, এফ সিটের মতো ডিলাক্স ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত ১৫% কর প্রদান করতে হয়।

যাত্রাপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ও ভাড়া

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রীদের সুবিধার জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় স্টেশনের সময়সূচী ও ভাড়া নিচে দেওয়া হলো:

ফেনী স্টেশন

  • ময়মনসিংহ থেকে ফেনী: ছাড়ে রাত ৯:৪০, পৌঁছায় রাত ৩:২০ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • চট্টগ্রাম থেকে ফেনী: ছাড়ে সকাল ৯:১৫, পৌঁছায় সকাল ১০:৩৯ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • ভাড়া: স্নিগ্ধা ৫০৫ টাকা, শোভন চেয়ার ৩০৫ টাকা।

লাকসাম স্টেশন

  • ময়মনসিংহ থেকে লাকসাম: ছাড়ে রাত ৯:৪০, পৌঁছায় রাত ২:৩৭ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম: ছাড়ে সকাল ৯:১৫, পৌঁছায় সকাল ১১:১৮ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • ভাড়া: স্নিগ্ধা ৫১৮ টাকা, শোভন চেয়ার ২৭০ টাকা।

কুমিল্লা স্টেশন

  • ময়মনসিংহ থেকে কুমিল্লা: ছাড়ে রাত ৯:৪০, পৌঁছায় রাত ২:১৩ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা: ছাড়ে সকাল ৯:১৫, পৌঁছায় সকাল ১১:৪২ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • ভাড়া: স্নিগ্ধা ৫১৫ টাকা, শোভন চেয়ার ২৫০ টাকা।

কিশোরগঞ্জ স্টেশন

  • ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ: ছাড়ে রাত ৯:৪০, পৌঁছায় রাত ১১:২৫ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • চট্টগ্রাম থেকে কিশোরগঞ্জ: ছাড়ে সকাল ৯:১৫, পৌঁছায় বিকাল ২:২৭ (বন্ধ মঙ্গলবার)।
  • ভাড়া: এসি বি ৩৪০ টাকা, স্নিগ্ধা ১৯০ টাকা, শোভন চেয়ার ১০০ টাকা।

জামালপুর থেকে চট্টগ্রাম রুট

বর্তমানে ট্রেনটি জামালপুর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। জামালপুর থেকে ট্রেনটি ছাড়ে রাত ৮:১০ মিনিটে এবং চট্টগ্রাম পৌঁছায় ভোর ৫:০০ মিনিটে। জামালপুর থেকে চট্টগ্রামের ভাড়া এসি বি ১৪৭৮ টাকা, এসি এস ৯৮৯ টাকা, স্নিগ্ধা ৮২৩ টাকা এবং শোভন চেয়ার ৪৩০ টাকা।

বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি ২০২৬

ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ যাত্রাপথে ট্রেনটি মোট ১০টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। স্টেশনগুলোর নাম ও সময়সূচী নিচে উল্লেখ করা হলো:

স্টেশনের নামজামালপুর থেকে চট্টগ্রামচট্টগ্রাম থেকে জামালপুর
জামালপুররাত ৮:১০সন্ধ্যা ৬:১০
পিয়ারপুররাত ৮:৪৩বিকাল ৫:১০
ময়মনসিংহরাত ৯:২০বিকাল ৪:২৫
আঠারবাড়িরাত ১০:৫০বিকাল ৩:০৫
গৌরীপুররাত ১০:০৩বিকাল ৩:৩২
কিশোরগঞ্জরাত ১১:২৫বিকাল ২:২৭
সরারচররাত ১২:০৫বিকাল ১:৪৬
ভৈরব বাজাররাত ১২:৩৭বিকাল ১:১২
আখাউড়ারাত ১:২৫দুপুর ১২:৩৫
কুমিল্লারাত ২:১৩সকাল ১১:৪২
লাকসামরাত ২:৩৭সকাল ১১:১৮
ফেনীরাত ৩:২০সকাল ১০:৩৯
ভাটিয়ারীভোর ৪:৩০সকাল ৯:১৯
চট্টগ্রামভোর ৫:০০সকাল ৯:১৫

মালামাল পরিবহন নীতি

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মালামাল বিনা ভাড়ায় সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। এই নিয়মটি যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক।

  • শীতাতপ শ্রেণীর যাত্রী: সর্বোচ্চ ৫৬ কেজি
  • প্রথম শ্রেণীর যাত্রী: সর্বোচ্চ ৩৭.৫ কেজি
  • শোভন শ্রেণীর যাত্রী: সর্বোচ্চ ২৮ কেজি
  • সুলভ ২য় শ্রেণীর যাত্রী: সর্বোচ্চ ২৩ কেজি

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

বিজয় এক্সপ্রেস এখন কোথায় আছে?
আপনি আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে tr 785 অথবা tr বিজয় এক্সপ্রেস লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস করলে ট্রেনটির বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন।

অনলাইন টিকেট কাটার পর কিভাবে রিফান্ড পাবো?

রিফান্ড পেতে হলে আপনাকে নিকটস্থ রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে অনলাইন টিকেটের কপি স্টেশন মাস্টারকে দেখাতে হবে। তিনি আপনার টিকেট রিসিভ করে একটি কাউন্টার টিকেট প্রিন্ট করবেন এবং নিয়ম অনুযায়ী রিফান্ডের ব্যবস্থা করবেন।

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার পর সিট নম্বর কিভাবে দেখব?

অনলাইনে টিকেট কাটার পর আপনার মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস আসবে। এতে ট্রেনের নাম, তারিখ, যাত্রার রুট এবং সিট নম্বর উল্লেখ থাকে। এছাড়া ই-টিকেট (PDF কপি) ডাউনলোড করলেও সেখানে সিট নম্বর লেখা থাকে। কাউন্টার থেকে টিকেট কাটলে টিকেটের উপরই সিট নম্বর মুদ্রিত থাকে। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকায় টিকেট কাটার সময়ই সিট বরাদ্দ হয়ে যায়। যাত্রার দিন নির্ধারিত সিটে বসতে হবে, অন্য যাত্রীর সিটে বসা বা সিট পরিবর্তন করা উচিত নয়। প্রয়োজনে ট্রেনের গার্ড বা অনবোর্ড সুপারভাইজারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক মাধ্যম। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী সঠিক সময়ে যাত্রা শুরু করা এবং টিকেট বুকিংয়ের নিয়ম মেনে চলা যাত্রাকে সুখকর করে তোলে। আশা করি এই বিস্তারিত গাইড আপনার যাত্রা পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। সঠিক তথ্য জেনে নিন, সময়মতো টিকেট বুকিং করুন এবং নিরাপদ যাত্রা উপভোগ করুন।

Nustrat Jahan

আমি রেলওয়ে সেবা ওয়েব সাইটে পরিচালনা করে থাকি। আমার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য প্রদান করা রেলে সম্পর্কে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button