Express Train
Trending

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে জানা থাকলে আপনার উত্তরবঙ্গ যাত্রা হতে পারে অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং নিরবচ্ছিন্ন। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিল রাজধানীর সাথে সরাসরি একটি উন্নত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ন ঘটে ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেনটির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এই ট্রেনটি কেবল একটি যাতায়াতের মাধ্যম নয় বরং কুড়িগ্রামের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের অবহেলিত এই জনপদের মানুষ একসময় যাতায়াতের জন্য শুধুমাত্র দূরপাল্লার বাসের ওপর নির্ভরশীল ছিল। দীর্ঘ যানজট আর পথের ক্লান্তি যাত্রীদের নাজেহাল করে তুলত। কিন্তু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকে চিত্রটি আমূল বদলে গেছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ট্রেনটি এখন কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম রুটে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের প্রথম পছন্দ। আজকের এই নিবন্ধে আমরা এই ট্রেনের সময়, ভাড়া, বিরতি এবং ভ্রমণের যাবতীয় খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং যাত্রার আদিঅন্ত

রেলপথে ভ্রমণের আনন্দই আলাদা। বিশেষ করে যখন আপনি পরিবারের সাথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন তখন ট্রেনের নিরাপত্তা এবং আরামের কোনো বিকল্প থাকে না। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৭৯৭ এবং ৭৯৮ নম্বর নিয়ে রেলপথে চলাচল করে। এই ট্রেনটি ভারত থেকে আমদানিকৃত সর্বাধুনিক লাল-সবুজ কোচ বা বগি দিয়ে সাজানো হয়েছে,যা মূলত এলএইচবি প্রযুক্তিতে তৈরি। এই উন্নত প্রযুক্তির কোচগুলো অধিক গতিতেও ট্রেনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং যাত্রীদের ঝাঁকুনিমুক্ত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত এই ট্রেনটি নিয়মিতভাবে চলাচল করে। যারা নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন তাদের জন্য কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জেনে রাখা জরুরি। তবে মনে রাখবেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রয়োজনে বা যান্ত্রিক কারণে মাঝেমধ্যে সময়ের কিছুটা পরিবর্তন করতে পারে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বুধবার সাপ্তাহিক বন্ধ পালন করে। অর্থাৎ, বুধবার ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম বা কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা কোনো পথেই এই ট্রেনটি চলাচল করে না।

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী (৭৯৭ নম্বর ট্রেন)

রাজধানী ঢাকা থেকে যারা কুড়িগ্রামের সবুজ ছায়ায় ঘেরা জনপদে যেতে চান, তাদের যাত্রা শুরু হয় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। এই দীর্ঘ যাত্রাটি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করে। ঢাকা থেকে ট্রেনটি যখন উত্তরবঙ্গের দিকে যাত্রা শুরু করে, তখন বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় এক অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়ে যা পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়।

ঢাকা থেকে ৭৯৭ নম্বর ট্রেন হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন ছাড়িয়ে জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী স্টেশন হয়ে ট্রেনটি এগিয়ে যায়। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী এটি রাতে ঢাকা থেকে ছাড়ে এবং খুব সকালে কুড়িগ্রাম পৌঁছায়। এই সময়টি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক, কারণ তারা সারা রাত ভ্রমণ করে সকালে পৌঁছে সারাদিন কাজ করতে পারেন।

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম ট্রেনের সময় ও বিরতির তালিকা

ট্রেন নম্বর ছাড়ার স্থান গন্তব্য ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন
৭৯৭ (কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস) ঢাকা (কমলাপুর) কুড়িগ্রাম রাত ৮:৪৫ মিনিট ভোর ৬:১৫ মিনিট বুধবার

উপরে উল্লিখিত সময়সূচীটি বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর। যাত্রীদের সুবিধার্থে বলে রাখা ভালো যে, ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া উচিত। ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে যারা ট্রেনে উঠবেন তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের থেকে ১০-১৫ মিনিট বেশি হাতে রাখা নিরাপদ। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এটি বেশ দ্রুতগামী. যেমন আপনি যদি দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের গতিপথ এবং স্টপেজ ভিন্নভাবে নির্ধারিত।

কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরার সময়সূচী ও বিরতিস্থল (৭৯৮ নম্বর ট্রেন)

কুড়িগ্রাম থেকে যারা রাজধানীতে ফিরতে চান, তাদের জন্য কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ৭৯৮ নম্বর নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এই ফিরতি যাত্রাটি হয় সকালের আলোয়। সকালে কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা এই ট্রেনটি সারাদিনের মনোমুগ্ধকর সব দৃশ্য দেখতে দেখতে বিকেলে ঢাকায় পৌঁছায়। পথে ট্রেনটি রংপুর, সান্তাহার ও নাটোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জংশনগুলোতে বিরতি দিয়ে থাকে। যারা দিনের বেলা ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ফিরতি ট্রেনটি একটি চমৎকার সুযোগ।

ট্রেনটি ফেরার পথে যখন ধরলা নদীর ওপর দিয়ে যায়, তখন নদীর বিশালতা ও স্থানীয় মানুষের মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন যাত্রীরা দিনের শেষ আলো থাকতেই ঢাকা পৌঁছাতে পারেন ও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরে যেতে পারেন। সপ্তাহের বুধবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে এটি যাত্রা শুরু করে।

কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা ট্রেনের সময় ও বিরতি

ট্রেন নম্বর ছাড়ার স্থান গন্তব্য ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন
৭৯৮ (কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস) কুড়িগ্রাম ঢাকা (কমলাপুর) সকাল ৭:১৫ মিনিট বিকেল ৫:২৫ মিনিট বুধবার

এই রুটে যারা যাতায়াত করেন, তারা প্রায়শই ট্রেনের পরিচ্ছন্নতা ও উন্নতমানের আসন ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ট্রেনের বায়ো-টয়লেট ব্যবস্থা ও প্রতিটি বগিতে পর্যাপ্ত ফ্যানের উপস্থিতি দীর্ঘ ভ্রমণকে করে তোলে অনেক বেশি সহনীয়। কুড়িগ্রাম জেলা থেকে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার এই সুযোগটি এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকেও চাঙ্গা করে তুলেছে।

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ও বিভিন্ন আসন

ভ্রমণের আগে খরচের একটি সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ রেলওয়ে এই রুটে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির আসনের ব্যবস্থা রেখেছে। আপনি আপনার সামর্থ্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আসন পছন্দ করতে পারেন। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে মূলত চারটি ক্যাটাগরির আসন রয়েছে: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট ও এসি বার্থ। প্রতিটি শ্রেণির ভাড়া সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ও এটি বাসের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

শোভন চেয়ার সাধারণত সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। অন্যদিকে, যারা আভিজাত্য এবং অধিক আরাম খোঁজেন, তারা স্নিগ্ধা বা এসি বার্থ পছন্দ করেন। ২০২৬ সালের বর্তমান আপডেট অনুযায়ী ভাড়ার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, অনলাইনে টিকিট কাটলে এর সাথে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস চার্জ এবং সরকারি ভ্যাট যুক্ত হতে পারে।

  • শোভন চেয়ার: ৫১০ থেকে ৫৫০ টাকা। (সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক)
  • স্নিগ্ধা (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার): ৯৭২ থেকে ১০৫০ টাকা। (দীর্ঘ ভ্রমণে আরামের জন্য সেরা)
  • এসি সিট (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিট): ১১৬৫ থেকে ১২৫০ টাকা।
  • এসি বার্থ (বিছানাসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত): ১৭৫০ থেকে ১৯০০ টাকা পর্যন্ত। (রাতে ঘুমানোর সুব্যবস্থা রয়েছে)

ভাড়ার এই হার স্টেশনের দূরত্ব এবং সিটের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ পরামর্শ হলো, ঈদ বা উৎসবের সময় টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, তাই অন্তত ১০ দিন আগে টিকিট সংগ্রহ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আসন বিন্যাস ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে এটি দেশের অন্যতম সেরা ট্রেন হিসেবে স্বীকৃত। আপনি যদি দক্ষিণবঙ্গের সাথে উত্তরবঙ্গের ট্রেনের তুলনা করতে চান? তবে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও  সার্ভিস সম্পর্কে জানতে আমাদের সাইটের অন্য পোস্টটি পড়তে পারেন।

টিকিট সংগ্রহের আধুনিক পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে এখন ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ। আপনি চাইলে আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মিনিটেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট বা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই টিকিট কেনা সম্ভব। তবে টিকিট কেনার সময় আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রয়োজন হবে।

টিকিট কাটার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি এনআইডি দিয়ে সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট কাটা যায়। অনলাইনে টিকিট কাটার পর সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখা ভালো। যদিও এখন ডিজিটাল টিকিট গ্রহণ করা হয়, তবুও নিরাপত্তার জন্য একটি হার্ডকপি সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী আপনার যাত্রার তারিখ সঠিকভাবে নির্বাচন করুন যেন শেষ মুহূর্তে কোনো বিপত্তি না ঘটে

যাত্রাপথে যেসব স্টেশনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বিরতি নেয়

আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সাধারণত সব স্টেশনে থামে না। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ঢাকা ও কুড়িগ্রামের মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জেলায় এবং স্টেশনে বিরতি প্রদান করে। এই বিরতিগুলো সাধারণত ৩ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। আপনার গন্তব্য যদি মাঝপথের কোনো স্টেশন হয়, তবে বিরতির তথ্যগুলো আপনার জন্য অপরিহার্য।

প্রধান বিরতি স্টেশনগুলোর তালিকা:

  • ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন
  • জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন
  • বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশন
  • এম মনসুর আলী স্টেশন (সিরাজগঞ্জ)
  • উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন
  • নাটোর রেলওয়ে স্টেশন
  • সান্তাহার জংশন
  • আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশন
  • পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশন
  • হিলি রেলওয়ে স্টেশন
  • বিরামপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন
  • পার্বতীপুর জংশন
  • বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন
  • রংপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • কাউনিয়া জংশন

এই স্টেশনগুলো ছাড়া অন্য কোনো ছোট স্টেশনে ট্রেনটি থামে না। সান্তাহার এবং পার্বতীপুর জংশনে ট্রেনটি দীর্ঘ সময় বিরতি নেয় কারণ এখানে ইঞ্জিন ঘোরানো বা যাত্রী উঠানামার বড় একটি চাপ থাকে। এই বিরতির সময় আপনি চাইলে প্ল্যাটফর্ম থেকে হালকা খাবার বা প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে পারেন। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন উত্তরবঙ্গের বড় সব শহরকে এটি যুক্ত করতে পারে।

কেন আপনি ভ্রমণের জন্য কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বেছে নেবেন?

বর্তমানে ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে অনেক বিলাসবহুল এসি বাস চলাচল করে তবুও ট্রেনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এর পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, ট্রেন ভ্রমণে যানজটের কোনো ভয় নেই। বাসে যেখানে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম পৌঁছাতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সেখানে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস মাত্র ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। এটি যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচায়।

দ্বিতীয়ত, ট্রেনের নিরাপত্তা অনেক বেশি। দীর্ঘ পথে বাস দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকলেও ট্রেনের ক্ষেত্রে সেই ভয় নেই বললেই চলে। এছাড়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। প্রতিটি বগিতে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে যেখানে যাত্রীরা আরাম করে হাত-পা ছড়িয়ে বসতে পারেন। ট্রেনের ডাইনিং কার বা খাবার বগি থেকে আপনি সাশ্রয়ী মূল্যে বিরিয়ানি, চা, কফি বা জলখাবার সংগ্রহ করতে পারেন।

কুড়িগ্রামের দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন সম্ভাবনা

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কেবল মানুষই বহন করে না বরং এটি এই অঞ্চলের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করছে। কুড়িগ্রাম জেলায় রয়েছে অসংখ্য দেখার মতো জায়গা। আপনি যদি ধরলা নদীর পাড়ে কিছুক্ষণ সময় কাটান তবে আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। এছাড়া চিলমারী বন্দর, ব্রহ্মপুত্রের বিশাল চর এবং ঐতিহাসিক নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।

কুড়িগ্রামের স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা এবং গ্রামীণ মেঠো পথ আপনাকে মুগ্ধ করবে। শীতকালে এই অঞ্চলের পিঠাপুলির উৎসব দেখার মতো হয়। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস চালু হওয়ার ফলে ঢাকা থেকে পর্যটকরা এখন খুব সহজেই দুই দিনের ছুটিতে কুড়িগ্রাম ঘুরে আসতে পারেন। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের এই জনপদকে জানার জন্য ট্রেন ভ্রমণই হবে আপনার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।

শেষ কথা

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বপ্নের সারথি। এটি কেবল একটি যাতায়াত ব্যবস্থা নয় বরং রাজধানীর সাথে এই অঞ্চলের আত্মিক বন্ধনের প্রতীক। নিরাপদ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্য এই ট্রেনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা চেষ্টা করেছি আজকের এই বিস্তারিত পোষ্টের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আপনার সামনে তুলে ধরতে।

আপনার যাত্রা শুভ হোক ও রেলপথে প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দদায়ক হয়ে উঠুক। নিয়মিত ট্রেনের খবর এবং আপডেট তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকুন। সঠিক তথ্য জানা থাকলে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। সচেতন নাগরিক হিসেবে রেলের সম্পদ রক্ষা করুন এবং ভ্রমণের শিষ্টাচার মেনে চলুন।

Nustrat Jahan

আমি রেলওয়ে সেবা ওয়েব সাইটে পরিচালনা করে থাকি। আমার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য প্রদান করা রেলে সম্পর্কে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button