এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী অন্যতম জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য ট্রেন হলো এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। আপনি যদি ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ বা কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা ভ্রমনের পরিকল্পনা করেন। তাহলে আপনার জন্য এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও এর ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের আপডেট তথ্য অনুযায়ী এই আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন, ভাড়ার হার এবং টিকেট কাটার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেন
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর (Intercity) ট্রেন। এর নাম রাখা হয়েছে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত এগারোসিন্ধুর অঞ্চলের নামানুসারে। ট্রেনটি মূলত কিশোরগঞ্জ জেলা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জন্য ঢাকার সাথে দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই ট্রেনটির দুটি নম্বর রয়েছে: ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার সময় এটি ৭৩৭ নম্বর ট্রেন হিসেবে পরিচিত এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা ফেরার সময় এটি ৭৩৮ নম্বর হিসেবে চলাচল করে। আরামদায়ক আসন বিন্যাস এবং তুলনামূলক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীরা এই ট্রেনটিকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখেন।
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ট্রেন ভ্রমণের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক সময়সূচী জেনে নেওয়া। সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাত্রার আগে আপডেট তথ্য দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নিচে এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনের বর্তমান সময়সূচী প্রদান করা হলোঃ
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ (৭৩৭):
এই ট্রেনটি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে প্রতিদিন সকালে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে এর সাপ্তাহিক ছুটি বুধবার। তবে মনে রাখবেন, ঢাকা থেকে বুধবার ট্রেনটি বন্ধ থাকলেও ফিরতি পথে ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে।
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা (৭৩৮):
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি প্রতিদিন ভোরে ছেড়ে আসে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা ফেরার পথে এই ট্রেনটির কোনো সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নেই। অর্থাৎ সপ্তাহের সাত দিনই আপনি এই ট্রেনে করে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা আসতে পারবেন।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | ছাড়ার স্টেশন | ছাড়ার সময় | গন্তব্য স্টেশন | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন |
| এগারোসিন্ধুর প্রভাতি (৭৩৭) | ঢাকা | সকাল ০৭:১৫ | কিশোরগঞ্জ | বেলা ১১:১৫ | বুধবার |
| এগারোসিন্ধুর প্রভাতি (৭৩৮) | কিশোরগঞ্জ | সকাল ০৬:৩০ | ঢাকা | সকাল ১০:৪০ | নেই |
ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ ও সময়সূচী
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়। এর ফলে মধ্যবর্তী স্টেশনের যাত্রীরাও সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটি মাত্র কয়েক মিনিট বিরতি দেয়। নিচে বিস্তারিত বিরতিস্থান ও পৌঁছানোর সময় উল্লেখ করা হলো:
| বিরতি স্টেশনের নাম | ঢাকা থেকে (৭৩৭) পৌঁছানোর সময় | কিশোরগঞ্জ থেকে (৭৩৮) পৌঁছানোর সময় |
| ঢাকা বিমানবন্দর | সকাল ০৭:৪২ | সকাল ০৯:৫৫ |
| নরসিংদী | সকাল ০৮:৩১ | সকাল ০৯:১০ |
| মেথিকান্দা | সকাল ০৮:৪৮ | সকাল ০৮:৫২ |
| ভৈরব বাজার | সকাল ০৯:০৬ | সকাল ০৮:১০ |
| কুলিয়ারচর | সকাল ০৯:৪৮ | সকাল ০৭:৪১ |
| বাজিতপুর | সকাল ০৯:৫৮ | সকাল ০৭:৩০ |
| সরারচর | সকাল ১০:০৮ | সকাল ০৭:২০ |
| মানিক খালি | সকাল ১০:৩০ | সকাল ০৬:৫৮ |
| গচিহাটা | সকাল ১০:৪২ | সকাল ০৬:৪৬ |
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
রেলপথের দূরত্ব এবং আসনের ধরন অনুযায়ী ভাড়ার পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনে মূলত তিনটি জনপ্রিয় শ্রেণি বা আসন ব্যবস্থা রয়েছে: শোভন, শোভন চেয়ার এবং প্রথম সিট। নিচে ঢাকা থেকে বিভিন্ন স্টেশনের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো (ভাড়া যেকোনো সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিবর্তন করতে পারে)।
আসন ভিত্তিক ভাড়ার তালিকা:
| গন্তব্য স্টেশন | শোভন (Shovon) | শোভন চেয়ার (Shovon Chair) | প্রথম সিট (First Seat) |
| নরসিংদী | ৫৫ টাকা | ৬৫ টাকা | ৮৫ টাকা |
| ভৈরব বাজার | ৮০ টাকা | ৯৫ টাকা | ১২৫ টাকা |
| কুলিয়ারচর | ৯৫ টাকা | ১১০ টাকা | ১৫০ টাকা |
| বাজিতপুর | ৯৫ টাকা | ১১৫ টাকা | ১৫৫ টাকা |
| সরারচর | ১০০ টাকা | ১২০ টাকা | ১৫৫ টাকা |
| মানিক খালি | ১০৫ টাকা | ১২৫ টাকা | ১৭০ টাকা |
| গচিহাটা | ১১০ টাকা | ১৩০ টাকা | ১৭৫ টাকা |
| কিশোরগঞ্জ | ১২০ টাকা | ১৪০ টাকা | ১৮৫ টাকা |
এখানে উল্লেখ্য যে, টিকেটের সাথে ভ্যাট এবং অন্যান্য চার্জ যুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি অনলাইন থেকে টিকেট ক্রয় করেন।
ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে। যেমনঃ
- ট্রেনটিতে সাধারণ শোভন আসন থেকে শুরু করে আরামদায়ক শোভন চেয়ার এবং ভিআইপি যাত্রীদের জন্য প্রথম শ্রেণির আসন রয়েছে।
- ট্রেনের ভেতর ছোট একটি ক্যান্টিন রয়েছে যেখানে আপনি হালকা নাস্তা, চা-কফি এবং পানি কিনতে পারবেন।
- ট্রেনের ভেতর মুসলিম যাত্রীদের জন্য নামাজের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ থাকে।
- দীর্ঘ যাত্রার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বগিতে স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় এতে রেলওয়ে পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকেন।
টিকেট বুকিং করার পদ্ধতি
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট কাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আপনি দুইভাবে এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেসের টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। যেমনঃ
অনলাইন টিকেট বুকিং
ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই আপনি টিকেট কাটতে পারেন। এর জন্য আপনাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। অনলাইনে টিকেট কাটার সময় আপনাকে আগে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং এনআইডি (NID) দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। পেমেন্ট করার জন্য বিকাশ, নগদ, রকেট বা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায়।
স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকেট
আপনি যদি অনলাইনে দক্ষ না হন, তবে সরাসরি রেলস্টেশনের টিকেট কাউন্টারে গিয়েও টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। যাত্রার অন্তত ২-৩ দিন আগে টিকেট কাটা নিরাপদ, কারণ এই রুটে যাত্রীদের অনেক চাপ থাকে।
ভ্রমণের সময় কিছু জরুরি পরামর্শ
- ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- ভ্রমণের সময় টিকেট অবশ্যই সাথে রাখুন। সেটি অনলাইন টিকেট হলে প্রিন্ট কপি বা মোবাইল স্ক্রিনশট রাখা ভালো।
- আপনার সাথে থাকা ব্যাগ এবং মূল্যবান জিনিসের দায়িত্ব আপনার নিজের। স্টেশনে বা ট্রেনের ভেতর অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার খাবেন না।
- ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে ময়লা ফেলবেন না। ট্রেনের ভেতরে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
হ্যাঁ, তবে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার সময় (৭৩৭) বুধবার ট্রেনটি বন্ধ থাকে। ফিরতি পথে (৭৩৮) কোনো বন্ধের দিন নেই।
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাতে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে কুয়াশা বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা দেরি হতে পারে।
ট্রেনের টিকেট কি ফেরত দেওয়া যায়?
হ্যাঁ, রেলওয়ের নির্ধারিত নিয়ম মেনে যাত্রা শুরুর নির্দিষ্ট সময় আগে টিকেট ফেরত দিলে কিছু চার্জ কেটে বাকি টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
অনলাইনে কি শিশুদের জন্য আলাদা টিকেট কাটতে হয়?
৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য টিকেটের প্রয়োজন হয় না যদি তারা অভিভাবকের সাথে সিট শেয়ার করে। তবে ৫ বছরের বেশি হলে তাদের জন্য হাফ বা ফুল টিকেটের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
শেষ কথা
এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের মানুষের জন্য একটি লাইফলাইন স্বরূপ। কম খরচে ও নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ট্রেন ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি এই আর্টিকেলে দেওয়া এগারোসিন্ধুর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, বিরতি স্টেশন এবং ভাড়ার তালিকা আপনাকে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে। নিয়মিত ট্রেনের আপডেট সময়সূচী জানতে রেলওয়ের নিজস্ব অ্যাপ বা নিকটস্থ স্টেশনের সাথে যোগাযোগ রাখুন। আপনার ট্রেন ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দময় হোক।



