চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া নিয়ে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো রাত ১টার ট্রেন মানেই আগের দিনের ট্রেন। কিন্তু রাত ১২টার পরের সময় পরের দিনের ভোররাত বোঝায়। তাই সীমান্ত এক্সপ্রেসের রাত ১:০৩ এবং চিত্রা এক্সপ্রেসের রাত ১:২৭—এই দুটি সময় আলাদা করে মনে রাখা জরুরি।
প্রদত্ত ২০২৬ সালের সময়সূচি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা পথে প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি আন্তঃনগর ট্রেন পাওয়া যায়। ট্রেনভেদে যাত্রার নির্ধারিত সময় প্রায় ৩ ঘণ্টা ২ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন মিলিয়ে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন সিস্টেমে আসনপ্রাপ্যতা দেখে টিকিট কাটাই নিরাপদ।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
- প্রথম ট্রেন সীমান্ত এক্সপ্রেস। অর্থাৎ চুয়াডাঙ্গা ছাড়ে রাত ১:০৩ মিনিটে।
- শেষ ট্রেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ছাড়ে বিকেল ৫:১৪ মিনিটে।
- সীমান্ত এক্সপ্রেস এবং সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ সোমবার।
- অন্যদিকে চিত্রা এক্সপ্রেসের বন্ধ রবিবার এবং কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের বন্ধ শুক্রবার।
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের সময়সূচী
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী সীমান্ত এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস ভোরে খুলনায় পৌঁছায়। অন্যদিকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস দুপুরের আগে খুলনায় পৌঁছায়। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বিকেলে ছেড়ে রাতে গন্তব্যে পৌঁছায়। নিচের সময়গুলো নির্ধারিত সময়সূচির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
| ট্রেনের নাম | চুয়াডাঙ্গা ছাড়ে | খুলনায় পৌঁছায় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| সীমান্ত এক্সপ্রেস | রাত ১:০৩ | ভোর ৪:১০ | সোমবার |
| চিত্রা এক্সপ্রেস | রাত ১:২৭ | ভোর ৪:৪০ | রবিবার |
| সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস | সকাল ৮:৫৯ | দুপুর ১২:১০ | সোমবার |
| কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস | বিকেল ৫:১৪ | রাত ৮:২৫ | শুক্রবার |
রাতের দুটি ট্রেনের ব্যবধান মাত্র ২৪ মিনিট। ফলে রাত ১:০৩ এবং রাত ১:২৭-এর মধ্যে গুলিয়ে ফেললে টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেন মিস হতে পারে। বিশেষ করে দূরের উপজেলা থেকে যাত্রা করলে স্টেশনে যাওয়ার যানবাহন আগে ঠিক করে রাখা ভালো।
প্রকাশিত সময়সূচি পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করুন। তবে আবহাওয়া, রেলপথের কাজ অথবা পরিচালনাগত কারণে ট্রেন দেরি করতে পারে। তাই খুলনায় পৌঁছে বাস, অফিস বা পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট থাকলে অন্তত কিছু অতিরিক্ত সময় হাতে রাখুন।

আরও জেনে নিনঃ ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের ভাড়া
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের ভাড়া আসনের শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী শোভন চেয়ার শ্রেণিতে ভাড়া সবচেয়ে কম। সীমান্ত এক্সপ্রেস এবং চিত্রা এক্সপ্রেসে এসি বার্থের ভাড়া ৬১৪ টাকা। তবে সব ট্রেনে সব ধরনের কোচ থাকে না, তাই বুকিংয়ের আগে শ্রেণি মিলিয়ে দেখা দরকার।
| ট্রেনের নাম | এসি বার্থ | এসি সিট | স্নিগ্ধা | শোভন চেয়ার |
|---|---|---|---|---|
| সীমান্ত এক্সপ্রেস ৭৪৮ | ৳৬১৪ | — | ৳৩১৭ | ৳১৬৫ |
| চিত্রা এক্সপ্রেস ৭৬৪ | ৳৬১৪ | — | ৳৩১৭ | ৳১৬৫ |
| সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ৭৬২ | — | ৳৩৮০ | — | ৳১৬৫ |
| রূপসা এক্সপ্রেস ৭২৮ | — | ৳৩৮০ | ৳৩১৭ | ৳১৬৫ |
| কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ৭১৬ | — | — | ৳৩১৭ | ৳১৬৫ |
লক্ষ করার মতো বিষয় হলো সরবরাহ করা ভাড়ার তালিকায় রূপসা এক্সপ্রেসের নাম আছে। কিন্তু সরবরাহ করা চুয়াডাঙ্গা-খুলনা সময়সূচির চারটি ট্রেনের তালিকায় রূপসা এক্সপ্রেস নেই। তাই রূপসা এক্সপ্রেসের ভাড়া দেখে ধরে নেওয়া যাবে না যে নির্দিষ্ট দিনে এই রুটে ট্রেনটি অবশ্যই চলবে।
এছাড়া ভাড়া, আসনবিন্যাস, অনলাইন বিক্রির নিয়ম এবং কোচের প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরনো স্ক্রিনশট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বদলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট প্ল্যাটফর্ম–এ নির্দিষ্ট তারিখের তথ্যকে অগ্রাধিকার দিন।
কোন আসন শ্রেণি বেছে নেবেন
কম খরচে বসে যেতে চাইলে শোভন চেয়ার ব্যবহারিক পছন্দ। তবে তুলনামূলক আরাম চাইলে স্নিগ্ধা বিবেচনা করা যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দরকার হলে এসি সিট বা এসি বার্থের প্রাপ্যতা দেখতে হবে। একইভাবে একা ভ্রমণকারীর সিদ্ধান্ত পরিবারসহ যাত্রীর সিদ্ধান্তের মতো নাও হতে পারে।
- শোভন চেয়ার: তাই বাজেট-সচেতন যাত্রীদের জন্য এটি উপযোগী।
- স্নিগ্ধা: সাধারণ আসনের চেয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের বিকল্প হিসেবে এটি বিবেচনা করা যায়।
- এসি সিট: শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বসার আসন পছন্দ করলে এই শ্রেণি উপযোগী।
- এসি বার্থ: প্রদত্ত তালিকায় নির্দিষ্ট কিছু ট্রেনে আছে। তবে তারিখভেদে প্রাপ্যতা যাচাই জরুরি।
কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সুবিধাজনক
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের সময়সূচী বেছে নেওয়ার সবচেয়ে বাস্তব পদ্ধতি হলো আগে খুলনায় পৌঁছানোর সময় ঠিক করা। ভোরে গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইলে সীমান্ত এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেস দেখা যায়। অন্যদিকে দিনের যাত্রায় সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এবং কাজ শেষে রওনা দিতে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস সুবিধাজনক।
| আপনার প্রয়োজন | উপযোগী ট্রেন | যে বিষয়টি ভাববেন |
|---|---|---|
| ভোরে খুলনায় পৌঁছানো | সীমান্ত এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেস | রাতের পরিবহন এবং নিরাপদে স্টেশনে পৌঁছানো |
| দিনের আলোয় যাত্রা | সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস | সোমবার সাপ্তাহিক বন্ধ |
| অফিস বা কাজ শেষে যাত্রা | কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস | খুলনায় পৌঁছানোর পর রাতের যাতায়াত |
সীমান্ত এক্সপ্রেস ৭৪৮ চুয়াডাঙ্গা থেকে রাত ১:০৩ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৪:১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। ট্রেনটি চিলাহাটি থেকে যাত্রা শুরু করে। এর আগে আলমডাঙ্গায় রাত ১২:৪০ মিনিটে পৌঁছে দুই মিনিট পর ছাড়ে।
চুয়াডাঙ্গার পর সীমান্ত এক্সপ্রেস দর্শনা হল্ট, কোটচাঁদপুর, মোবারকগঞ্জ, যশোর, নওয়াপাড়া এবং দৌলতপুরে থামে। তবে সোমবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ। উত্তরাঞ্চল থেকে আসা ট্রেনটির পথে বিলম্ব হলে চুয়াডাঙ্গায় নির্ধারিত সময়ের আগে পৌঁছানো আরও গুরুত্বপূর্ণ।

চিত্রা এক্সপ্রেস ৭৬৪ রাত ১:২৭ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে ভোর ৪:৪০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। রবিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ। ট্রেনটি ঢাকা থেকে আগের দিন সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং আলমডাঙ্গায় রাত ১:০৫ মিনিটে পৌঁছে দুই মিনিট পর ছাড়ে।
চিত্রা এক্সপ্রেস কোটচাঁদপুর, মোবারকগঞ্জ, যশোর এবং নওয়াপাড়া হয়ে খুলনায় যায়। তাই রাতের যাত্রায় দূরের উপজেলা থেকে আসা যাত্রীদের অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছানো নিরাপদ।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ৭৬২ সকাল ৮:৫৯ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে দুপুর ১২:১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। রাজশাহী থেকে ট্রেনটি সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করে। আলমডাঙ্গায় সকাল ৮:৩৮ মিনিটে পৌঁছে সকাল ৮:৪০ মিনিটে ছাড়ে।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের পরের স্টপেজগুলোর মধ্যে দর্শনা হল্ট, সফদরপুর, কোটচাঁদপুর, মোবারকগঞ্জ, যশোর এবং নওয়াপাড়া রয়েছে। দিনের আলোয় যাত্রা হওয়ায় পরিবারসহ ভ্রমণকারীদের কাছে সময়টি আরামদায়ক হতে পারে। তবে সোমবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ৭১৬ বিকেল ৫:১৪ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে রাত ৮:২৫ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। শুক্রবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ। রাজশাহী থেকে ট্রেনটি দুপুর ২:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং আলমডাঙ্গায় বিকেল ৪:৫৩ মিনিটে পৌঁছে দুই মিনিট পর ছাড়ে।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস দর্শনা হল্ট, সফদরপুর, কোটচাঁদপুর, মোবারকগঞ্জ, যশোর এবং নওয়াপাড়ায় থামে। ফলে খুলনায় পৌঁছানোর সময় রাত হওয়ায় স্টেশন থেকে শেষ গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করুন।
টিকিট কাটার সঠিক পদ্ধতি
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের টিকিট অনলাইনে অথবা নির্ধারিত রেলওয়ে কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যায়। অনলাইনে বুকিংয়ের সময় যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, আসনের শ্রেণি, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং মোবাইল নম্বর সতর্কতার সঙ্গে দিতে হয়। তাই সিস্টেমে যে ট্রেন এবং আসন বাস্তবে দেখাবে সেটিকেই চূড়ান্ত ধরে পরিকল্পনা করুন।
- প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করুন।
- এরপর চুয়াডাঙ্গা স্টেশন এবং খুলনা গন্তব্য নির্বাচন করুন।
- সঠিক যাত্রার তারিখ দিন। বিশেষ করে রাত ১টার ট্রেনের ক্ষেত্রে তারিখ মিলিয়ে নিন।
- চলমান ট্রেন এবং আসনের শ্রেণি দেখে পছন্দ নির্বাচন করুন।
- যাত্রীর নাম, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং মোবাইল নম্বর নির্ভুলভাবে লিখুন।
- পেমেন্টের আগে ট্রেন নম্বর, সময় এবং ভাড়া আবার যাচাই করুন।
- সবশেষে টিকিটের তথ্য সংরক্ষণ করে স্টেশনে পরিচয়পত্রসহ উপস্থিত হন।
রাত ১:০৩ মিনিটের সীমান্ত এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের তারিখ এবং স্টেশনে উপস্থিতির সময় নিয়ে বিভ্রান্তি বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো তারিখের রাত পেরিয়ে ভোররাতে ট্রেন ছাড়লে সেই তারিখটি ই-টিকিট সিস্টেমে কীভাবে দেখানো হচ্ছে তা আগে মিলিয়ে নিন।
অনলাইন টিকিটে নাম বা পরিচয়পত্রের তথ্য ভুল হলে ভ্রমণের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে কাউন্টার থেকে টিকিট নিলেও ট্রেন নম্বর এবং যাত্রার তারিখ লিখে রাখুন। শুধু ট্রেনের নাম মনে রাখলে সীমান্ত এক্সপ্রেস ৭৪৮ এবং চিত্রা এক্সপ্রেস ৭৬৪-এর মতো কাছাকাছি সময়ের ট্রেনে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যাত্রার আগে যে ভুল এড়াবেন
সাপ্তাহিক বন্ধ না দেখা এই রুটের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর একটি। সোমবার সীমান্ত এক্সপ্রেস এবং সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে। রবিবার চিত্রা এক্সপ্রেস এবং শুক্রবার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে। তাই তারিখ নির্বাচন করার পর ট্রেনের চলাচল আবার যাচাই করুন।
- প্রথমত, ট্রেনের নামের পাশাপাশি ট্রেন নম্বর মিলিয়ে নিন।
- এছাড়া রাত ১২টার পরের সময়কে আগের দিনের সময় ধরে নেবেন না।
- চুয়াডাঙ্গা ছাড়ার সময়কে খুলনায় পৌঁছানোর সময় মনে করবেন না।
- সম্ভব হলে স্টেশনে শেষ মুহূর্তে না গিয়ে অন্তত ২০ মিনিট আগে পৌঁছান।
- অনলাইন বুকিংয়ে পরিচয়পত্রের তথ্য বানানসহ সঠিকভাবে লিখুন।
- সবশেষে খুলনায় পৌঁছে শেষ গন্তব্যে যেতে কত সময় লাগবে তা আগে ভাবুন।
ধরা যাক কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে রাত ৮:২৫ মিনিটে খুলনায় পৌঁছালেন। খুলনা শহরের ভেতরে আপনার গন্তব্য হলে স্টেশন থেকে বাস, রিকশা বা অন্য পরিবহনের সময় আলাদা করে ধরতে হবে। কারণ ট্রেনের পৌঁছানোর সময় এবং বাড়িতে পৌঁছানোর সময় এক নয়।
সাধারণ ভুলের আরেকটি উদাহরণ হলো ভাড়া দেখে ট্রেন নির্বাচন করা কিন্তু আসনের প্রাপ্যতা না দেখা। নির্দিষ্ট শ্রেণি সিস্টেমে না থাকলে বিকল্প শ্রেণি বা অন্য ট্রেন বিবেচনা করুন। তবে ভাড়া ও আসনবিন্যাস পরিবর্তিত হলে অফিসিয়াল বুকিং তথ্যই চূড়ান্ত।
দ্রুত যাচাইয়ের তালিকা
- প্রথমে যাত্রার দিন সাপ্তাহিক বন্ধ কি না দেখুন।
- এরপর ট্রেন নম্বর এবং ছাড়ার সময় মিলিয়ে নিন।
- স্টেশনে যাওয়ার স্থানীয় পরিবহন আগে ঠিক করুন।
- পরিচয়পত্রের তথ্য বুকিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- সবশেষে বিলম্বের সম্ভাবনা ধরে খুলনায় পরবর্তী কাজের সময় ঠিক করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা যেতে কত সময় লাগে?
প্রদত্ত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেনভেদে ৩ ঘণ্টা ২ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিট লাগে। তবে বিলম্ব হলে প্রকৃত যাত্রার সময় আরও বাড়তে পারে।
প্রথম ট্রেন কোনটি?
সীমান্ত এক্সপ্রেস ৭৪৮ প্রথম ট্রেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি চুয়াডাঙ্গা থেকে রাত ১:০৩ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৪:১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছানোর কথা।
শেষ ট্রেন কোনটি?
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ৭১৬ শেষ ট্রেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি বিকেল ৫:১৪ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮:২৫ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়।
সোমবার কোন ট্রেন চলে?
সোমবার সীমান্ত এক্সপ্রেস এবং সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ। তাই চিত্রা এক্সপ্রেস এবং কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস চলার কথা। যাত্রার আগে অনলাইন সিস্টেমে যাচাই করুন।
রবিবার চিত্রা এক্সপ্রেস চলবে?
না। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী চিত্রা এক্সপ্রেস ৭৬৪-এর সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার। তাই ওই দিনের জন্য অন্য ট্রেনের সময় এবং আসনপ্রাপ্যতা দেখুন।
শুক্রবার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে যাত্রা করা যাবে?
প্রদত্ত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ। সুতরাং বিকল্প ট্রেনের সময় ও টিকিটের প্রাপ্যতা আগে যাচাই করুন।
টিকিট কোথায় কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে অথবা নির্ধারিত রেলওয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যায়। অনলাইনে কাটলে পেমেন্টের আগে সব তথ্য মিলিয়ে নিন।
যাত্রার জন্য শেষ যাচাই
চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের সময়সূচী এবং চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা ট্রেনের ভাড়া দেখে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা যায়। তবে নির্দিষ্ট তারিখে ট্রেন চলবে কি না, ভাড়া কত এবং কোন আসন খালি আছে—এই তিনটি তথ্য বুকিংয়ের আগে আবার মিলিয়ে নিন।
ভোরে পৌঁছাতে চাইলে রাতের ট্রেনের পরিবহন ব্যবস্থা আগে ঠিক করুন। অন্যদিকে দিনের যাত্রায় সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এবং বিকেলের যাত্রায় কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বিবেচনা করা যায়। স্টেশনে অন্তত ২০ মিনিট আগে পৌঁছালে প্ল্যাটফর্ম এবং টিকিট যাচাইয়ের সময় থাকে।
সময়সূচি ও টিকিটের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট প্ল্যাটফর্মে আপনার নির্দিষ্ট তারিখের ট্রেন এবং ভাড়া যাচাই করে নিন।
তথ্য যাচাই ও আপডেট: ট্রেনের সময়সূচী, সাপ্তাহিক বন্ধ, ভাড়া, আসনবিন্যাস এবং অনলাইন বুকিংয়ের নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। সর্বশেষ যাচাই: অক্টোবর ২০২৬।
